খাম প্রতীক নিয়ে ভাঙড় থেকে দু’বার বিধানসভা নির্বাচনে জিতেছিলেন নওশাদ সিদ্দিকী। রাজ্যের দুই আসনে উপনির্বাচনের আগে সেই প্রতীকই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস (ডিটিসি)-কে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। অন্য দিকে, নওশাদের ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ)-কে দেওয়া হয়েছে আলমারি প্রতীক।
খাম প্রতীক নিয়ে ভাঙড় থেকে দু’বার বিধানসভা নির্বাচনে জিতেছিলেন নওশাদ সিদ্দিকী। রাজ্যের দুই আসনে উপনির্বাচনের আগে সেই প্রতীকই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস (ডিটিসি)-কে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। অন্য দিকে, নওশাদের ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ)-কে দেওয়া হয়েছে আলমারি প্রতীক। একই ভাবে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বাঁশি প্রতীক নিয়ে লড়েছিল হুমায়ুন কবীরের আম জনতা উন্নয়ন পার্টি (এইউজেপি)। উপনির্বাচনের আগে সেই প্রতীকও বদলে দিয়ে তাদের দেওয়া হয়েছে টেবিল।
খাম প্রতীক ফেরত চেয়ে ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছেন নওশাদ। তিনি জানিয়েছেন, প্রয়োজনে কলকাতা হাইকোর্টে যাবেন।
২০২১ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি আত্মপ্রকাশ করে আইএসএফ। ফুরফুরা শরিফের পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকী দলটি প্রতিষ্ঠা করলেও, শুরু থেকেই নেতৃত্বে রয়েছেন তাঁর ছোট ভাই নওশাদ। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বামফ্রন্ট ও কংগ্রেসের সঙ্গে সংযুক্ত মোর্চার ছাতার তলায় লড়ে ভাঙড় আসন থেকে জয়ী হন নওশাদই। নির্বাচনের ঠিক আগে দল গঠিত হওয়ায় আইএসএফের হাতে নিজস্ব প্রতীক ছিল না। ফলে বিহারের রাষ্ট্রীয় সেকুলার মজলিস পার্টির খাম প্রতীক নিয়েই বাংলার নির্বাচনী ময়দানে নামে তারা। পরবর্তী সময়ে পঞ্চায়েত ও লোকসভা নির্বাচনেও ওই প্রতীকেই লড়াই করে আইএসএফ।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে দলের স্থায়ী প্রতীকের জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন করেছিলেন নওশাদ। তবে শেষ পর্যন্ত খাম প্রতীক নিয়েই ভোটে লড়ে তাঁর দল। ভাঙড় থেকে ফের জয়ী হন নওশাদ। কিন্তু উপনির্বাচনের আগে সেই খাম প্রতীকই আর আইএসএফের হাতে রইল না। কমিশন ওই প্রতীক দিয়েছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসকে। আইএসএফকে দেওয়া হয়েছে আলমারি প্রতীক।
খাম প্রতীক ফেরত চেয়ে নির্বাচন কমিশনকে চিঠিও দিয়েছেন নওশাদ। তাঁর অভিযোগ, যে দল আগে ছিল না, সেই দলকে রাতারাতি স্বীকৃত দল হিসেবে দেখিয়ে প্রতীক দেওয়া হয়েছে। নওশাদের কথায়, ‘‘যে দলটা ছিলই না, সেই দল রাতারাতি রিকগনাইজ় পার্টি হয়ে গেল। এই খেলা উচিত না।’’
অন্য দিকে, গত বছরের শেষে তৃণমূল ছেড়ে নিজের দল গড়েন হুমায়ুন কবীর। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তাঁর দলকে বাঁশি প্রতীক দিয়েছিল কমিশন। রেজিনগর ও নন্দীগ্রামে উপনির্বাচনের আগে সেই প্রতীকও বদলে দেওয়া হয়েছে। এ বার হুমায়ুনের আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতীক টেবিল। গত বিধানসভা নির্বাচনে রেজিনগর এবং নওদা—দুই আসনেই প্রার্থী হয়েছিলেন হুমায়ুন এবং দু’টি আসনেই জয়ী হন। পরে রেজিনগর আসনটি ছেড়ে দেন তিনি। ওই আসনে এ বার প্রার্থী তাঁর ছেলে গোলাম নবি আজাদ। আগামী ৬ অক্টোবর রেজিনগরে উপনির্বাচন হওয়ার কথা।
নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়ে দেওয়ায় সেখানেও উপনির্বাচন হচ্ছে। এই দুই আসনের ভোটকে ঘিরেই তৃণমূলের দুই শিবির—মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে রাজনৈতিক টানাপড়েন শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিক ভাবে জানিয়ে দেয়, তৃণমূলের ‘জোড়াফুল’ প্রতীক আপাতত ব্যবহার করা যাবে না। ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নামটিও দুই শিবির ব্যবহার করতে পারবে না। নিজেদের জন্য পৃথক নাম বেছে নিতে হবে তাদের। তবে চাইলে সেই নামের সঙ্গে ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’-এর সঙ্গে সম্পর্কের উল্লেখ রাখা যাবে। এর পরেই শুক্রবার সকালে নিজেদের বিকল্প নাম ও প্রতীকের প্রস্তাব কমিশনের কাছে পাঠায় মমতা এবং ঋতব্রত শিবির।
শুক্রবারই দুই শিবিরের নাম ও প্রতীক চূড়ান্ত করে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী, মমতার শিবিরের নাম ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’। তাদের প্রতীক ফুটবল খেলোয়াড়। অন্য দিকে, ঋতব্রতদের দলের নাম ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং তাদের প্রতীক খাম। ফলে উপনির্বাচনের আগে একসঙ্গে বদলে গেল একাধিক দলের প্রতীক। মমতা শিবির হারাল তৃণমূলের পরিচিত জোড়াফুল প্রতীক। নওশাদের আইএসএফের হাতছাড়া হল খাম এবং হুমায়ুনের দলের গেল বাঁশি।

