উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ বুধবার কলকাতার জোড়াসাঁকোয় এক নির্বাচনী জনসভায় যোগ দেন। সেখানে তিনি বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য নিয়ে কথা বলার পাশাপাশি শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করেন
২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বিজেপির প্রচার শুরু হয়ে গিয়েছে। সেই সূত্রেই বুধবার উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ কলকাতার জোড়াসাঁকো বিধানসভা এলাকায় একটি জনসভায় ভাষণ দেন। দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে আয়োজিত এই সভায় প্রচুর সমর্থক ভিড় জমান।
যোগীর মুখে রবীন্দ্রনাথ
ভাষণ দিতে গিয়ে যোগী আদিত্যনাথ বাংলার ঐতিহাসিক এবং সাংস্কৃতিক গুরুত্বের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, "এই মাটিই দেশকে জাতীয় সঙ্গীত এবং জাতীয় স্তোত্র দিয়েছে। আজ এখানে এসে আমি অত্যন্ত আনন্দিত।"
জোড়াসাঁকোর ঐতিহ্যের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, "এই এলাকাতেই গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ঠাকুরবাড়ি। গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে যুক্ত এই চত্বরটি একটি বিরাট ঐতিহ্য বহন করে।"
এরপরই তিনি রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে (TMC) তীব্র আক্রমণ করেন। যোগীর অভিযোগ, "এটা কী দুঃখজনক ব্যাপার! যেখানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বা ভারতমাতার ছবি থাকা উচিত ছিল, সেখানে তৃণমূলের গুন্ডারা জোর করে জায়গা দখল করে 'মমতা দিদি'র ছবি লাগিয়ে দিয়েছে।"এই ঘটনাকে বাংলার সাংস্কৃতিক পরিচয়ের উপর আঘাত বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, "এটা ভারতীয়ত্বের অপমান, বাংলার সম্মান ও পরিচয়ের উপর সরাসরি আঘাত।"
বঙ্গে ভোট
পশ্চিমবঙ্গে ২৯৪ আসনের বিধানসভা নির্বাচন দুটি দফায় অনুষ্ঠিত হবে। ভোটের গণনা ৪ মে। ভারতের নির্বাচন কমিশন (ECI) অনুযায়ী, প্রথম দফায় ১৫২টি বিধানসভা কেন্দ্রে এবং দ্বিতীয় দফায় ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে। এই রাজ্যে একদিকে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস চতুর্থবারের জন্য ক্ষমতায় ফিরতে চাইছে, অন্যদিকে গত নির্বাচনে ভালো ফল করার পর বিজেপি সরকার গড়ার লক্ষ্যে ঝাঁপিয়েছে। ফলে এবারের নির্বাচনে জোরদার লড়াইয়ের সম্ভাবনা। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে কংগ্রেস একটিও আসন জিততে পারেনি। গত নির্বাচনের সেই খারাপ ফলের পর এবার কংগ্রেস চাইছে তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপির লড়াইকে ত্রিমুখী করে তুলতে।


