বন্ধুর ফোনে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন, ফিরলেন বস্তাবন্দি দেহ হয়ে! ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কৃষ্ণগঞ্জে চাঞ্চল্য, খুনের অভিযোগে গ্রেফতার ৩।

বন্ধুর ফোন পেয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন। তারপর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন। চার দিন পর ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন মাঠ থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার হল তাঁর দেহ। নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জ থানার এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ইতিমধ্যেই খুনের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতের নাম অরূপ কর্মকার। তিনি কৃষ্ণগঞ্জ থানার শাকদহ গ্রামের বাসিন্দা। পরিবারের অভিযোগ, কয়েকদিন আগে বন্ধুদের ফোন পেয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর থেকেই তাঁর আর কোনও খোঁজ মিলছিল না। অনেক খোঁজাখুঁজির পর পরিবারের পক্ষ থেকে কৃষ্ণগঞ্জ থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরিও করা হয়।

এরপর স্বর্ণখালী-শ্যামনগর গ্রামের মাঠে, মহেশচন্দ্রপুর ঘাটে যাওয়ার রাস্তার ধারে একটি বস্তা থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বেরোতে দেখে সন্দেহ হয় স্থানীয় কৃষকদের। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ বস্তার মুখ খুলতেই উদ্ধার হয় অরূপ কর্মকারের বস্তাবন্দি মৃতদেহ। এই ঘটনায় মুহূর্তের মধ্যেই এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।

তদন্তে নেমে পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ করে খুনের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে খুনের নেপথ্যের কারণ জানার চেষ্টা চলছে। এটি ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে, আর্থিক লেনদেনের কারণে, নাকি অন্য কোনও কারণে ঘটেছে—সব দিকই খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। তদন্তের স্বার্থে এখনও পর্যন্ত খুনের নির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ করেনি পুলিশ।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত এগোলে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে। তবে বন্ধুদের ফোন পেয়ে বাড়ি থেকে বেরোনোর পরে কী কী ঘটনা নিহতের সঙ্গে ঘটেছিল সেগুলি খুঁজে বার করার চেষ্টা করেছে পুলিশ। নিহত ব্যক্তি কোথায় কোথায় গিয়েছিল, কাদের সঙ্গে সেই দিন যোগাযোগ করেছিল তাও জানান চেষ্টা করছে। নিহতের মোবাইল ফোন এখনও হাতে পায়নি বলেও পুলিশ সূত্রের খবর। তবে সীমান্তবর্তী এলাকায় এই ঘটনা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।