জেল থেকে কি নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে লড়তে পারবেন কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান? গ্রেফতার ও জেলবন্দি অবস্থায় নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে কী নিয়ম, জেনে নিন।

নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে গ্রেফতার করল কলকাতা পুলিশ। শনিবার পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২০০৭ সালের চারটি পুরনো জামিন অযোগ্য পরোয়ানার ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার নন্দীগ্রাম থানার অন্তর্গত গাংরা গ্রামের বাসিন্দা মিলন। তাঁর বাবার নাম প্রবীর প্রধান ওরফে প্রবোধ প্রধান। পুলিশ জানিয়েছে, গত ১৮ সেপ্টেম্বর চণ্ডীপুর থানা এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।

মিলন প্রধানের গ্রেফতারিতে পুলিশের প্রতিক্রিয়া

কলকাতা পুলিশ জানিয়েছে, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা মেনেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। উপনির্বাচনের আগে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা জামিন অযোগ্য পরোয়ানাগুলো কার্যকর করতে একটি বিশেষ অভিযান চলছে। সেই অভিযানের অংশ হিসেবেই এই গ্রেফতারি। একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ জানিয়েছে, "ধৃতের বিরুদ্ধে খুন, খুনের চেষ্টা, খুনের উদ্দেশ্যে অপহরণ, প্রমাণ লোপাট, বেআইনিভাবে বাড়িতে প্রবেশ এবং মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে দাঙ্গার মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।"

মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর মধ্যে রয়েছে ২০০৭ সালের ৩০ এপ্রিল নন্দীগ্রাম থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলা। সেখানে ভারতীয় দণ্ডবিধির (IPC) ১৪৭, ১৪৮, ১৪৯, ৪৪৮, ৩০২ এবং ৫০৬ নম্বর ধারা এবং অস্ত্র আইনের ২৭ নম্বর ধারায় অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর নন্দীগ্রাম থানাতেই আরও একটি মামলা দায়ের হয়। সেখানে আইপিসি-র ১৪৭, ১৪৮, ১৪৯, ৩২৬, ৩৬৪, ৩০২ এবং ২০১ নম্বর ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছিল।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, ২০০৭ সালের ৮ নভেম্বর নন্দীগ্রাম থানায় আইপিসি-র ১৪৭, ১৪৮, ১৪৯, ৩২৪, ৩০৭ এবং ৩০২ নম্বর ধারা এবং অস্ত্র আইনের ২৫/২৭ নম্বর ধারায় একটি মামলা হয়। পাশাপাশি, ২০০৭ সালের ৩০ জুলাই খেজুরি থানায় (মামলা নম্বর ৪৪/০৭) আইপিসি-র ১৪৮ ও ১৪৯ নম্বর ধারা এবং অস্ত্র আইনের ২৫/৩৫ নম্বর ধারায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। কলকাতা পুলিশ জানিয়েছে, "২০০৭ সাল থেকে টানা উনিশ বছর ধরে ওই ব্যক্তি পলাতক ছিলেন এবং আইনি প্রক্রিয়া এড়িয়ে চলছিলেন। সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোতে তাঁকে পলাতক দেখিয়েই চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে।" পুলিশ আরও জানিয়েছে, এর আগে একাধিকবার এই পরোয়ানা কার্যকর করার চেষ্টা হলেও তা সফল হয়নি। সেই কারণে বিভিন্ন সময়ে সংশ্লিষ্ট আদালতে নন-এক্সিকিউশন রিপোর্ট (NER) জমা দেওয়া হয়েছিল।

অন্যদিকে, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে বিজেপি। তাদের দাবি, পুলিশ আইন মেনেই কাজ করেছে। রিপোর্টে উল্লেখ করা এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, ২০০৭ সালের একটি খুনের মামলায় ঝুলে থাকা পরোয়ানার ভিত্তিতেই এই গ্রেফতারি। নির্বাচন থাকুক বা না থাকুক, এই ধরনের পরোয়ানা কার্যকর করাটাই নিয়ম।

আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। আর ভোটগণনা হবে ৯ অক্টোবর।

জেলে থেকে কি নির্বাচনে লড়া যায়?

নিয়ম অনুযায়ী, দুই বছরের কম সাজাপ্রাপ্ত হলে নির্বাচন কমিশনের দিক থেকে কোনও বাধা থাকবে না। স্ক্রুটিনিতে বাধা হবে না এই গ্রেফতারি। জেলে বন্দি থাকলেও কংগ্রেস প্রার্থীর হয়ে জেলের বাইরে প্রচার করতে পারবে কংগ্রেস নেতৃত্ব। প্রচারের জন্য জেলের ভিতর থেকে প্রার্থীর রেকর্ড করা বক্তব্য জনসভায় মাইকে প্রচার করা যায়। এর আগেও একাধিক নেতার জেল থেকে নির্বাচনে লড়াই অভিজ্ঞতা রয়েছে।

জেল থেকে নির্বাচনে ল়ড়ার ইতিহাসঃ

  • ১৯৭৭ সালে গোপীবল্লভপুর বিধানসভায় প্রার্থী সন্তোষ রানা জেলে থেকে নির্দল প্রার্থী হিসেবে লড়াই করেন আর জয়ী হন।
  • ১৯৯৬ সালে অধীররঞ্জন চৌধুরী জেলে বন্দী থাকা অবস্থায় প্রার্থী হন। মুর্শিদাবাদের নবগ্রাম থেকে বাম প্রার্থীকে পরাজিত করেন।
  • ২০১৬ সালে কামারহাটি বিধানসভার প্রার্থী মদন মিত্র জেলে থেকে নির্বাচন লড়েন। কিন্তু তিনি হেরে যান।
  • ২০২৩ সালে আনারুল হক ওরফে বিপ্লব পঞ্চায়েত নির্বাচনের দিনই গ্রেফতার হন। কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে জয়ীও হন তিনি।