দার্জিলিংয়ে হানিমুনে গিয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হলেন এক নবদম্পতি। হোমস্টের ক্যাম্পফায়ারে আগুন পোহানোর সময় আচমকাই ঝলসে যান স্ত্রী। স্বামীর অভিযোগ, হোমস্টের কর্মীরা আগুনে কোনও রাসায়নিক ছুড়ে মারায় এই বিপত্তি। বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি ওই তরুণী।
উত্তর দিনাজপুর থেকে পাহাড়ের কোলে হানিমুন কাটাতে গিয়েছিলেন এক নবদম্পতি। কিন্তু দার্জিলিংয়ের সিটংয়ের একটি হোমস্টেতে ক্যাম্পফায়ারের সময় মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হলেন নতুন বউ। গত ১৩ সেপ্টেম্বর ঘটনাটি ঘটে। অনলাইনে বুক করা ওই হোমস্টেতে সন্ধেবেলা সময় কাটাচ্ছিলেন তাঁরা।
তরুণীর স্বামী শৌভিক দাস কার্শিয়াং থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। সিটং অরা হোমস্টে (Sittong Aura Homestay) কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে এফআইআর ও কড়া ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন তিনি। শৌভিকের অভিযোগ, হোমস্টের এক কর্মী ক্যাম্পফায়ারের আগুনে অজানা কোনও তরল রাসায়নিক ছুড়ে মারে। এর ফলে দপ করে আগুন জ্বলে ওঠে এবং তাঁর স্ত্রী নিকিতা সাহাকে গ্রাস করে। তিনি আরও জানান, আগুন নেভানোর যন্ত্র বা দ্রুত উদ্ধারের মতো কোনও সুরক্ষাব্যবস্থাই সেখানে ছিল না।
শৌভিকের অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি নিজের এবং স্ত্রী নিকিতার জন্য অনলাইনে সিটং অরা হোমস্টে বুক করেছিলেন। ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ তারিখ সকাল ১১টা নাগাদ তাঁরা সেখানে পৌঁছান।
সেদিন রাত ৮টা ২২ মিনিট নাগাদ তাঁরা ক্যাম্পফায়ার করছিলেন। অভিযোগ, তখনই হোমস্টের এক কর্মী আগুনে কোনও তরল রাসায়নিক ঢেলে দেয়। শৌভিক জানান, প্রথমে আগুন ছোট থাকলেও হঠাৎ তা ভয়ংকর রূপ নেয় এবং তাঁর স্ত্রীর শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।
আগুন বাড়তে দেখে শৌভিক হতবাক হয়ে যান। তিনি জানান, সেখানে কোনও ফায়ার এক্সটিংগুইশার বা সাহায্য করার মতো কেউ ছিল না। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার মতো কোনও ব্যবস্থাই হোমস্টে কর্তৃপক্ষের ছিল না। ঘটনার পর প্রায় এক ঘণ্টা তাঁরা সেখানেই আটকে ছিলেন বলে দাবি তাঁর।
শৌভিক জানান, হোমস্টেতে এক ঘণ্টা কাটানোর পর তাঁরা শিলিগুড়ির সেবক রোডের আনন্দলোক হাসপাতালে পৌঁছাতে আরও তিন ঘণ্টা সময় নেন। পরে তাঁর স্ত্রীকে দেশুন হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।
অভিযোগপত্রে শৌভিক জানিয়েছেন, তাঁর নিজের হাতও আগুনে পুড়ে গেছে। তাঁর স্ত্রীর অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক এবং তিনি "মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন"।
গত ১৬ সেপ্টেম্বর কার্শিয়াং থানার আইসি-র কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন শৌভিক। তিনি জানান, আগুন লাগার সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ সহ ঘটনার সমস্ত তথ্য তাঁরা সংগ্রহ করেছেন।
দেখুন সেই ভাইরাল সিসিটিভি ভিডিও
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, এই ঘটনার জন্য নির্দিষ্ট কোনও ব্যক্তি নাকি পুরো হোমস্টে কর্তৃপক্ষ দায়ী, তা নিয়ে পরিবার নিশ্চিত নয়। তবে শৌভিকের দাবি, সিটং অরা হোমস্টে কর্তৃপক্ষ এবং যে ব্যক্তি রাসায়নিক ঢেলেছিল, তারা তাঁর স্ত্রীকে হত্যার চেষ্টা করেছে। তিনি দোষীদের চরম শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ যাতে দ্রুত এফআইআর দায়ের করে কড়া পদক্ষেপ নেয়, সেই আর্জি জানিয়েছেন তিনি।


