ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে শীর্ষ আদালতের নির্দেশের পরে বিজেপি বিরোধিতায় সুর চড়ালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। 

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে শীর্ষ আদালতের নির্দেশের পরে বিজেপি বিরোধিতায় সুর চড়ালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। তিনি বলেন, আজ বিজেপি এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আদালতে পরাজিত হয়েছেন। আগামী দিনে তারা ভোটের মাধ্যমে পরাজিত হবেন। তিনি আরও বলেন, 'বাংলা স্বাধীনতা আন্দোলন এবং নবজাগরণের পথ দেখিয়েছে। আমরা কখনও বহিরাগতদের কাছে মাথা নত করি না। বাংলার মানুষ তাদের মেরুদণ্ড বিক্রি করতে বা দাসত্বে থাকতে জানে না।'

এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছিলেন তৃণমূল সাংসদ দোলা সেন ও ডেরেক ও ব্রায়েন। তৃণমূলের তরফে এই প্রক্রিয়ায় আপত্তি জানিয়ে এবং স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেই সুপ্রিম কোর্টে মামলা করা হয়েছিল। তাদের অভিযোগ, অযথা হয়রানি করা হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। শুনানির পরে বেশ কয়েকটি অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিয়েছে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ। তৃণমূলের অনেক দাবিকেই মান্যতা দেওয়া হয়েছে। প্রথমত, আদালত উল্লেখ করেছে যে, বাবা-মায়ের নামের অমিল, বাবা-মায়ের সঙ্গে বয়সের ব্যবধান কম ইত্যাদির মতো অসঙ্গতির কারণে প্রায় ১.২৫ কোটি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। যে সব ভোটাররা শুনানিতে ডাক পাচ্ছেন, তাঁরা তাঁদের পক্ষ থেকে শুনানিতে সওয়াল করার জন্য কারও সাহায্য নিতে পারেন। আত্মীয়, বন্ধু, প্রতিবেশীদের, এমনকী বিএলএ-দেরও সাহায্য নিতে পারেন। অর্থাৎ, এবার থেকে বিএলএ-রা থাকতে পারবেন হিয়ারিং-এ। শুধু তাই নয়, ভোটারের হয়ে সওয়ালও করতে পারবেন। শীর্ষ আদালত বলেছে, ভোটারের অনুপস্থিতিতে প্রতিনিধি হিসাবে নথি ও আপত্তি জমা দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে বিএলএ অর্থাৎ রাজনৈতিক দলের বুথ স্তরের এজেন্টদের। বিএলএ-দের কাছে অথোরিটি লেটার থাকবে। অর্থাৎ তাঁর কাছে একটি অনুমতিপত্র থাকতে হবে এবং তাতে সংশ্লিষ্ট ভোটারের স্বাক্ষর বা আঙুলের ছাপ থাকতে হবে।

দ্বিতীয়ত, শুনানির জন্য পঞ্চায়েত ভবন এবং ব্লক অফিসে আলাদা কাউন্টার খুলতে হবে নথি বা আপত্তি জমা দেওয়ার জন্য। পর্যাপ্ত কর্মচারী নিয়োগ করতেও নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করার জন্য রাজ্যকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজ্য যথাযথ আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে। তালিকা প্রকাশের ১০ দিনের মধ্যে আপত্তি দায়ের করতে হবে। নথি সন্তোষজনক না হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে শুনানির সুযোগ দেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যক্তিগতভাবে বা অনুমোদিত প্রতিনিধির মাধ্যমে শুনানি করা যেতে পারে। যেখানে অনুমোদিত এজেন্ট উপস্থিত থাকতে পারবেন।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের খানিক পরেই বারাসতের সভা থেকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন,'SIR নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে একটি শুনানি হয়েছিল, AITC মামলা দায়ের করেছিল। সাধারণ মানুষ ক্রমাগত হয়রানির শিকার হচ্ছিল। নির্বাচন কমিশন নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। ৩১ ডিসেম্বর, প্রায় ২০ দিন আগে, আমি দশজন সদস্য নিয়ে দিল্লি গিয়েছিলাম। আমরা মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে একটি বৈঠক করেছিলাম। অসঙ্গতির তালিকা প্রকাশ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। যদি তাঁরা তালিকা প্রকাশ করত, তাহলে সত্য স্পষ্ট হয়ে যেত। উত্তর ২৪ পরগনার মাটি আমার জন্য ভাগ্যবান। এই মাটি স্পর্শ করা মানেই জয় নিশ্চিত। আজ শুনলাম সুপ্রিম কোর্ট AITC-এর দাবি মেনে নিয়েছে এবং রায় দিয়েছে যে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি তালিকা প্রকাশ করতে হবে। BLA 2-কেও শুনানি কেন্দ্রে যেতে অনুমতি দেওয়া হবে। বিজেপির SIR খেলা শেষ। যে এক কোটি নাম বাদ দেওয়ার লক্ষ্য ছিল, সেগুলো রক্ষা পেয়েছে এবং জয় বাংলার জনগণের। আমাদের ভোটাধিকার হুমকির মুখে ছিল, কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট তাদের কঠোর তিরস্কার করেছে। আজ বিজেপি এবং প্রধানমন্ত্রী মোদী আদালতে পরাজিত হয়েছেন। আগামী দিনে তাঁরা ভোটের মাধ্যমে পরাজিত হবেন। এটি উত্তরপ্রদেশ, বিহার, মধ্যপ্রদেশ বা গুজরাত নয়। এই ভূমি স্বাধীনতা আন্দোলন এবং নবজাগরণের পথ দেখিয়েছে। আমরা কখনও বহিরাগতদের কাছে মাথা নত করি না। বাংলার মানুষ তাদের মেরুদণ্ড বিক্রি করতে বা দাসত্বে থাকতে জানে না।'