
ভুলেও সন্তানকে আর কিনে দেবেন না সাধের হাওয়াইমিঠাই, যা পরিচিত কটনক্যান্ডি নামে। কারণ ইতিমধ্যেই দেশের একটি রাজ্যে নিষিদ্ধ করা হয়েছে ছোটদের এই প্রিয় খাবারটি। পাশাপাশি নিষিদ্ধ করা হয়েছে রঙিন ফুলকপির মাঞ্চুরিয়ান। কর্ণাটক সরকারের স্বাস্থ্যবিভাগ রোডামাইন -বি ফুট কালারিং এজেন্টকে গোটা রাজ্যে নিষিদ্ধ করেছে। কর্ণাটকের স্বাস্থ্যমন্ত্রী দীনেশ গুন্ডু রাই নিষেধাজ্ঞার কথা ঘোষণা করেছেন। বলেছেন, কেউ রোডামাইন-বি ফুড কলালিং এজেন্ড ব্যবহার করে তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে খাদ্য নিরাপত্তা আইনের অধীরেন কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কর্ণাটকের স্বাস্থ্য মন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য দফতর একটি অভিযান চালিয়েছিল। সংগ্রহ করা ফুলকপির মাঞ্চুরিয়ানের ১৭১টি নমুনার মধ্যে মাত্র ৬৪টি নিরাপদ। বাকি ১০৬টি স্বাস্থ্যের জন্য প্রবল ক্ষতিকর। অন্যদিকে কটন ক্যান্ডি বা হাওয়াইমিঠায়ের ২৫টি নমুনা পরীক্ষা করে দেখা গেছে মাত্র ১০টি নিরাপদ, আর বাকি ১৫টি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এগুলিতে কৃত্রিম রং ব্যবহার করা হয়েছে। মন্ত্রী জানিয়েছেন কৃত্রিম রঙের কারণে রাজ্য়ে খাদ্যসামগ্রীর মান খারাপ হয়ে যাচ্ছে। খাদ্য সামগ্রীর মান ঠিক রাখতে রাজ্যসরকার যথেস্ট সচেতন বলেও জানিয়েছেন।
রাজ্যের মন্ত্রী বলেন, টারট্রাজিন, কারমোইসাইন, সানসেট ইয়েলো এবং রোডামাইন-1বি জাতীয় কৃত্রিম রঙে ব্যবহার দেদার হচ্ছে রাজ্যে। যেগুলি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তিনি আরও বলেন হোটেলের পাশাপাশি রাস্তার ধারের খাবারের দোকান থেকেও নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। যার মধ্যে কিছু স্বাস্থ্যকর হলেও অধিকাংশই স্বাস্থ্যকর নয়। খাবার রঙিন করার জন্য রোডামাইন ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তাই দুটি খাবার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেছেন, রোডামাইনের ব্যবহারের কারণে খাবার দেখতে লাল লাগে। যা ভোজনরসিকদের প্রলুব্ধ করে। তিনি আরও বলেন, অনেক খাবারেই রাসায়নিক ব্যবহার করা হচ্ছে। আর সেই কারণে খাবার নিষিদ্ধ করা হচ্ছে। কর্ণাটক জুড়েই একটি সমীক্ষা করা হচ্ছে। তাতে দেখা গেছে রাসায়নিরগুলি যেমন (রোডামাইন-বি ফুড কালারিং এজেন্ট এখনও ব্যবহার করা হচ্ছে। তাই রাজ্য সরকার এই নোটিশ জারি করেছে। তিনি আরও বলেছেন, খাবারে কোনও নিষিদ্ধ জিনিস ব্যবহার করা উচিৎ নয়। আগামী দিনে এজাতীয় ঘটনা ঘটলে কড়া পদক্ষেপ করা হবে।
রোডামাইন-বি (Rhodamine – B)ফুড কালারিং এজেন্ট কিঃ
এটি একটি রাসায়নিক রঙ। যা কাপড় ও কাগজ শিল্পে ব্যবহার করা হয়। মূলক কাপড় আর কাগজ রঙিন করতেই ব্যবহার করা হয়। এটি দেখতে সবুজ রঙের। এর সঙ্গে যে কোনও তরল পদার্থ বা জল যোগ করতে হালকা লাল ও গোলাপী রঙের হয়ে যায়। এই রঙে খুবই আকর্ষণীয়। তাই ফুলকপির মাঞ্চুরিয়ান বা হাওয়াইমিঠাই তৈরি করতে এই বিষাক্ত রঙ ব্যবহার করা হয়। এই রাসায়নিককে কার্সিনোজেনিক এজেন্টও বলা হয়। এই রাসায়নিক যদি নিয়মিত খাওয়া হয় তাহলে ক্যান্সারও হতে পারে।
Health Tips (স্বাস্থ্য খবর): Read all about Health care tips, Natural Health Care Tips, Diet and Fitness Tips in Bangla for Men, Women & Kids - Asianet Bangla News