মঙ্গলবার ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) মুখপাত্র সৌরভ দাস সুপ্রিম কোর্টের একটি অন্তর্বর্তী নির্দেশের তীব্র সমালোচনা করেছেন। বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে FIR-এর তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে আদালত। তবে তাদের দাবি না মানলে ফের দেশজোড়া আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

আবারও আন্দোলনের পথে যাবে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)? সেই আশঙ্কই দানা বাঁধছে মুখপাত্র সৌরভ দায়ের একটি সোশ্যাল মিডিয়া বার্তা ঘিরে। সেখানে বলা হয়েছে তাদের দাবি না মানলে দেশজোড়া আন্দোলনের পথে আবারও যাবে সিজেপি। বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া FIR তুলে না নিলে ফের দেশজোড়া আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিল ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)। মঙ্গলবার দলের মুখপাত্র সৌরভ দাস সুপ্রিম কোর্টের একটি অন্তর্বর্তী নির্দেশ নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। শীর্ষ আদালত বলেছে, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে FIR-এর তদন্ত চলতে পারে, তবে আপাতত তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ করা যাবে না।

ককরোজদের বার্তা

সৌরভ দাস এক্স (X) হ্যান্ডেলে একটি পোস্টে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, রাজ্য সরকারগুলো আদালতের এই নির্দেশকে FIR প্রত্যাহার না করার যুক্তি হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। অথচ, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে করা FIR তুলে নেওয়া CJP-র অন্যতম প্রধান দাবি ছিল।

তিনি আসাম এবং বিহারের মতো NDA-শাসিত রাজ্য সরকারগুলির কাছে আবেদন জানান, কেন্দ্রের দেওয়া প্রতিশ্রুতিকে সম্মান জানিয়ে যেন বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে করা FIR তুলে নেওয়া হয়। তাঁর কথায়, আদালত পুলিশি তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার জন্য কোনও বাধ্যবাধকতা দেয়নি। FIR তুলে নেওয়ার জন্য মঙ্গলবার পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়ে সৌরভ ফের হুঁশিয়ারি দেন, দাবি পূরণ না হলে CJP আবার পথে নামতে বাধ্য হবে।

সৌরভ দাসের সোশ্যাল মিডিয়া বার্তা

এক্স-এ দেওয়া বিবৃতিতে সৌরভ দাস বলেন, "CJP বিক্ষোভ সংক্রান্ত একগুচ্ছ জনস্বার্থ মামলার প্রেক্ষিতে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেশের জন্য একটা বিপদসংকেত। বিশেষ করে ৪ নম্বর নির্দেশিকাটি, যেখানে সরকারগুলিকে FIR-এর ভিত্তিতে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগের। এই নির্দেশিকাটা ভারত সরকারের দেওয়া সেই প্রতিশ্রুতির সরাসরি বিরোধী, যা দেশের তরুণদের ২৬ জুলাই ২০২৬-এ দেওয়া হয়েছিল। বলা হয়েছিল, সব FIR তুলে নেওয়া হবে এবং শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অংশ নেওয়ার জন্য কোনও বিক্ষোভকারীকে নিশানা করা হবে না।"

Scroll to load tweet…

সৌরভ আরও বলেন, "সেই প্রতিশ্রুতির উপর ভরসা রেখেই ককরোচ জনতা পার্টি দেশজোড়া আন্দোলন প্রত্যাহার করেছিল। আমাদের এখন প্রবল আশঙ্কা, ভারত সরকার এবং বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলি এই নির্দেশকে হাতিয়ার করে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে FIR জিইয়ে রাখবে এবং তাঁদের হেনস্থা করবে। প্রথম দিন থেকেই আমাদের এই ভয়টা ছিল: রাজনৈতিক উদ্দেশ্য পূরণের জন্য আদালতকে ব্যবহার করা হতে পারে।" তিনি কেন্দ্রের আইনজীবীদেরও সমালোচনা করেন। তাঁর মতে, CJP-কে দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথা মাথায় রেখে আদালতে এই নির্দেশের বিরোধিতা করা উচিত ছিল তাঁদের।

সৌরভ স্পষ্ট করে দেন যে, শীর্ষ আদালতের এই নির্দেশে রাজ্য সরকারগুলির FIR তুলে নেওয়ার অধিকারে কোনও হস্তক্ষেপ করা হয়নি। তিনি বলেন, "আদালতের এই নির্দেশ কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। হাজার হাজার পড়ুয়া ও বিক্ষোভকারীকে দেওয়া একটি প্রকাশ্য প্রতিশ্রুতিকে এভাবে আইনি মারপ্যাঁচে দুর্বল করে দেওয়া যায় না। এতে মানুষের বিশ্বাস ভাঙে। যাই হোক, এই অন্তর্বর্তী নির্দেশে এমন কিছু নেই যা কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারগুলিকে FIR প্রত্যাহার করতে বাধা দেয়।"

সৌরভ বলেন, "মামলা তুলে নেওয়া বা না নেওয়ার ক্ষমতা এখনও পুরোপুরি সরকারের হাতেই রয়েছে। আদালত এটা বাধ্যতামূলক করেনি যে সরকারকে FIR চালিয়ে যেতেই হবে। তেমনটা ভাবা হলে ভুল হবে। সরকারের উচিত নয় আদালতের নির্দেশকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে ২৬ জুলাইয়ের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসা।"

হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, "আজই সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণের শেষ দিন। আমরা আবার দাবি জানাচ্ছি, FIR তুলে নেওয়া হোক এবং কোনও বিক্ষোভকারীকে হেনস্থা করা হবে না—এই প্রতিশ্রুতি পালন করা হোক। তা না হলে, ককরোচ জনতা পার্টি আবার দেশব্যাপী আন্দোলন শুরু করতে বাধ্য হবে। যে সরকার নিজের কথা রাখে না, তার বিরুদ্ধে তরুণ প্রজন্ম চুপ করে থাকবে না।"

আন্দোলনের হুঁশিয়ারি অভিজিৎ দিপকের

CJP-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ ডিপকেও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "ছাত্রছাত্রীদের হেনস্থা করা হলে ককরোচ জনতা পার্টি খুব শীঘ্রই একটি বিশাল শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে তার জবাব দেবে।"

৩৭ দিনের আন্দোলনের সমাপ্তি

উল্লেখ্য, NEET-UG পেপার ফাঁসের অভিযোগে CJP যন্তর মন্তরে ৩৭ দিন ধরে বিক্ষোভ দেখায়। এর মধ্যে সমাজকর্মী সোনাম ওয়াংচুক ২৬ দিন অনশন করেন। এরপর সরকার তাদের দাবি মেনে নেয়, শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। আত্মহত্যা করা পরীক্ষার্থীদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ এবং বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে FIR তুলে নেওয়ার বিষয়েও সরকার সম্মত হয়েছিল।

এর আগে, সুপ্রিম কোর্ট সমস্ত রাজ্যকে নির্দেশ দেয়, NEET-UG ২০২৬ পেপার ফাঁস নিয়ে দেশব্যাপী বিক্ষোভের সময় আটক বা গ্রেপ্তার হওয়া ১৮ বছরের কম বয়সী সমস্ত ছাত্রছাত্রীকে মুক্তি দিতে হবে, যদি না তাদের বিরুদ্ধে পূর্ববর্তী কোনও অপরাধের রেকর্ড থাকে। তবে তদন্ত চালিয়ে যেতে পারবে।