সঠিক বেতন কাঠামোর চালুর দাবিতে এবার আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথে পার্শ্বশিক্ষকরা।  শনিবার থেকে সেন্ট্রাল পার্কের মেলার মাঠে সামনে অনশনে বসার সিদ্ধান্ত নিলেন তাঁরা।  ধর্না মঞ্চে অনশনে বসবেন ৫০ পুরুষ ও মহিলা শিক্ষক। আন্দোলনকারীদের তরফে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, যতদিন না পর্যন্ত দাবি পূরণ হচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত অনশন চলবে।

রাজ্য়ের বিভিন্ন সরকারি ও সরকার অনুমোদিত স্কুলে পার্শ্বশিক্ষকের সংখ্যা কম নয়।  তাঁদের জন্য নির্দিষ্ট বেতন কাঠামোও চালু করেছে রাজ্য সরকার। এমনকী, পার্শ্বশিক্ষকদের বেতনের জন্য কত খরচ হচ্ছে, সেই রিপোর্টও নিয়মমাফিক কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকে পাঠিয়েও দেয় রাজ্য শিক্ষা দফতর।  আন্দোলনকারীদের দাবি, বেতন কাঠামোর মোতাবেক আপার প্রাইমারিতে যাঁরা পড়ান, তাঁদের ৩৩ হাজার টাকা বেতন পাওয়ার কথা। আর প্রাইমারিতে পার্শ্বশিক্ষকদের বেতন হওয়া উচিত ২৬ হাজার টাকা। বাস্তবে  পার্শ্বশিক্ষকদের বেতন কিন্তু অনেক কম। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, এখন প্রাইমারিতে ১০ হাজার টাকা ও আপার প্রাইমারিতে ১৩ টাকা বেতন পান পার্শ্বশিক্ষকরা।  কিন্তু কেন এই বৈষম্য? আন্দোলনকারীদের প্রশ্ন,  'তাহলে কি ধরে নিতে হবে, হাজার হাজার পার্শ্বশিক্ষকের পকেট কেটে কাটমানি নিচ্ছে খোদ রাজ্য সরকারই?'  

সঠিক বেতন কাঠামোর চালুর দাবিতে গত সোমবার থেকে সল্টলেকে বিকাশ ভবনে অদূরে সেন্ট্রাল পার্ক মেলার মাঠের সামনে ধর্নায় বসেছেন কয়েক হাজার পার্শ্বশিক্ষক।  ধরনা চলছে পার্শ্বশিক্ষক ঐক্য মঞ্চের ব্যানারে। সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক মধুমিতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'আমরা মুখ্যমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছি। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনও সদুত্তর পাইনি। বাধ্য হয়েই অনশনে বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।'  বস্তুত শুক্রবার সন্ধ্যা থেকেই অনশনের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন আন্দোলনরত পার্শ্বশিক্ষকরা।  সেন্ট্রাল পার্কের মেলার মাঠের সামনে চলে এসেছে কম্বল বালিশ-সহ অন্যন্য সামগ্রী।  জানা গিয়েছে, শনিবার সকালে আন্দোলনকারীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করবেন চিকিৎসকরা। তারপরে শুরু হবে আমরণ অনশন।