পুজোয় সারারাত প্যান্ডেল হপিং করতে চান? কিন্তু এখনই পায়ে ব্যথা, পা ফাটা? পঞ্চমীর রাতেই যাতে পা ব্যথায় বসে পড়তে না হয়, তাই এখন থেকেই শুরু করুন পায়ের যত্ন। রইল ৫টি সহজ পদ্ধতি।
দুর্গা পুজো মানে নতুন জামা আর সারারাত ধরে ঠাকুর দেখা। একদিনে ১০-১২ হাজার স্টেপ হাঁটা তো খুব সাধারণ ব্যাপার। কিন্তু সারা বছর জুতোর মধ্যে বন্দি থাকা পা কি এত হাঁটার জন্য তৈরি? এখন থেকেই যত্ন না নিলে ষষ্ঠীর রাতেই পায়ে ফোসকা, যন্ত্রণা আর পা ফাটা নিয়ে বাড়ি ফিরতে হবে। তাই পুজোর এখনও হাতে ১০-১৫ দিন থাকতেই এই ৫টি নিয়ম মেনে চলুন।
১. রোজ রাতে গরম জলে ফুট সোক: এটি সবচেয়ে কার্যকরী। রোজ রাতে ঘুমানোর আগে এক বালতি হালকা গরম জলে ১ চামচ নুন, সামান্য শ্যাম্পু এবং কয়েক ফোঁটা সরষের তেল দিয়ে ১৫ মিনিট পা ডুবিয়ে রাখুন। এতে পায়ের রক্ত সঞ্চালন বাড়বে, পেশির ক্লান্তি দূর হবে এবং পা নরম থাকবে। সপ্তাহে ২ বার এই জলে একটি লেবুর রস মিশিয়ে নিন, দুর্গন্ধ দূর হবে।
২. স্ক্রাবিং ও ফাটা গোড়ালির যত্ন: পা ফাটা থাকলে নতুন জুতো পরলে আরও কষ্ট হবে। সপ্তাহে ২ দিন ফুট স্ক্রাব ব্যবহার করুন। বাড়িতেই চালের গুঁড়ো, মধু ও টক দই মিশিয়ে স্ক্রাব বানাতে পারেন। পা ঘষে মরা চামড়া তুলে ফেলুন। তারপর ফাটা জায়গায় ভেসলিনের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা গ্লিসারিন মিশিয়ে লাগিয়ে মোজা পরে ঘুমান। ৭ দিনেই পার্থক্য দেখবেন।
৩. এখন থেকেই জুতো ব্রেক-ইন করুন: পুজোর জন্য নতুন জুতো কিনে পুজোর দিনই প্রথম পরবেন না। এতে ফোসকা পড়া অবধারিত। এখন থেকেই নতুন জুতো বাড়িতে ৩০ মিনিট করে পরে হাঁটুন। পায়ের সঙ্গে জুতো সেট হয়ে যাবে। আর প্যান্ডেল হপিংয়ের জন্য ব্লক হিল বা স্নিকার্স বেছে নিন, সরু স্টিলেটো এড়িয়ে চলুন। জুতোর ভেতরে সিলিকন সোল ব্যবহার করতে পারেন।
৪. নখ কাটা ও ময়েশ্চারাইজ: পায়ের নখ বেশি বড় থাকলে হাঁটার সময় চাপ লেগে ব্যথা হয়। পুজোর এক সপ্তাহ আগেই নখ সুন্দর করে কেটে ফাইল করে নিন। রোজ রাতে পায়ে ভালো করে ময়েশ্চারাইজার বা ফুট ক্রিম লাগান, বিশেষ করে গোড়ালিতে। এতে পা নরম থাকবে এবং দীর্ঘক্ষণ হাঁটলেও টান ধরবে না।
৫. পায়ের ব্যায়াম শুরু করুন: হঠাৎ করে ১০ কিমি হাঁটলে পায়ের পেশিতে টান ধরবেই। এখন থেকে রোজ ৫ মিনিট পায়ের ব্যায়াম করুন। পায়ের আঙুল দিয়ে তোয়ালে আঁকড়ে ধরা, গোড়ালি ঘোরানো এবং কাফ মাসলের স্ট্রেচিং করুন। এতে পায়ের সহনশক্তি বাড়বে।
পুজোয় আনন্দ করতে হলে পা দুটোকে তো ভালো রাখতেই হবে। তাই আজ থেকেই এই ৫টি পদ্ধতি মেনে চলুন, আর নিশ্চিন্তে সারারাত ঠাকুর দেখুন।
