Swine Flu: আবহাওয়া বদলের সময় জ্বর-সর্দি লেগেই আছে। কিন্তু সব জ্বর সাধারণ ভাইরাল ফিভার নয়। H1N1 ভাইরাসের কারণে হওয়া সোয়াইন ফ্লু-র লক্ষণ প্রথমে সাধারণ জ্বরের মতোই লাগে। প্যারাসিটামলে সাময়িক কমলেও ভেতরে বাড়ে সংক্রমণ। তাই পার্থক্য বোঝা জরুরি।
Swine Flu Symptoms: জ্বর এলেই আমরা প্যারাসিটামল খেয়ে নিই। দু-একদিনে জ্বর কমেও যায়। কিন্তু এখন যে হারে সোয়াইন ফ্লু বাড়ছে, তাতে শুধু জ্বর বলে হেলাফেলা করলে বিপদ হতে পারে। কারণ সাধারণ ভাইরাল জ্বর ও সোয়াইন ফ্লু-র শুরুর লক্ষণ প্রায় একই।
সাধারণ জ্বরের লক্ষণ কী?
সাধারণত ঠান্ডা লাগা বা মরসুমি ভাইরাসে এই জ্বর হয়।
১. হালকা থেকে মাঝারি জ্বর, ১০০-১০১ ডিগ্রি পর্যন্ত।
২. সর্দি, নাক বন্ধ, হালকা গলা ব্যথা।
৩. ২-৩ দিনের মধ্যে জ্বর নিজে থেকেই কমে যায়।
৪. শরীরে ব্যথা থাকলেও খুব বেশি কাহিল লাগে না।
সোয়াইন ফ্লু (H1N1) -র লক্ষণ কীভাবে আলাদা?
সোয়াইন ফ্লু হল H1N1 ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের সংক্রমণ। এটি অনেক বেশি ছোঁয়াচে।
১. হঠাৎ বেশি জ্বর: জ্বর এক লাফে ১০২-১০৪ ডিগ্রি পর্যন্ত উঠে যায় এবং প্যারাসিটামলে সহজে কমে না। ৩ দিনের বেশি থাকে।
২. তীব্র শ্বাসকষ্ট: সাধারণ জ্বরে শ্বাসকষ্ট হয় না। কিন্তু সোয়াইন ফ্লুতে বুকে চাপ, শ্বাস নিতে কষ্ট, ক্রমাগত কাশি হয়।
৩. প্রচণ্ড দুর্বলতা: সারা শরীরে অসহ্য ব্যথা, মাথা যন্ত্রণা, উঠে দাঁড়ানোর ক্ষমতা থাকে না।
৪. বমি ও ডায়রিয়া: সাধারণ জ্বরে সাধারণত হয় না, কিন্তু H1N1-তে অনেকের বমি বমি ভাব, পেট খারাপ, ডায়রিয়া দেখা যায়।
৫. গলা ব্যথা ও কাশি: শুকনো কাশি ক্রমাগত বাড়তে থাকে।
কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন?
যদি ৩ দিনের বেশি জ্বর থাকে, জ্বরের সঙ্গে শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, নীলচে ঠোঁট, ক্রমাগত বমি বা ৫ বছরের কম বাচ্চা ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে ঝিমুনি ভাব দেখা দেয়, তাহলে দেরি করবেন না।
কী করবেন, কী করবেন না?
১. নিজে থেকে অ্যান্টিবায়োটিক খাবেন না। সোয়াইন ফ্লু ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া নয়।
২. মাস্ক পরুন, ভিড় এড়িয়ে চলুন। হাঁচি-কাশির সময় রুমাল ব্যবহার করুন।
৩. প্রচুর জল, গরম জলে গার্গল করুন এবং বিশ্রাম নিন।
৪. ডাক্তারের পরামর্শে H1N1 টেস্ট করান।
মনে রাখবেন, সাধারণ জ্বর ৩ দিনে সারে, কিন্তু সোয়াইন ফ্লু সময়মতো ধরা না পড়লে নিউমোনিয়া পর্যন্ত হতে পারে। তাই জ্বরকে হালকাভাবে নেবেন না।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।


