ইনস্টাগ্রাম খুললেই বিজ্ঞাপন - "৭ দিনে পান মুক্তোর মতো সাদা দাঁত!" রাতারাতি ভাইরাল হয়েছে টিথ হোয়াইটেনিং টেপ বা স্ট্রিপস। ১০-১৫ মিনিট দাঁতে লাগিয়ে রাখলেই হলদে ভাব গায়েব। কিন্তু দাঁতের ডাক্তাররা কি বলছেন?

চা, কফি, সিগারেট খেয়ে দাঁতে হলদে ছোপ পড়ে গেছে? পার্লারে গিয়ে দাঁত পরিষ্কার করার সময় নেই? তাই এখন অনেকেই ভরসা রাখছেন Teeth Whitening Strips বা টেপের উপর। অনলাইনে ৩০০ থেকে ২০০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে এই টেপ। কিন্তু এই চটজলদি সাদা করার ট্রেন্ড কতটা নিরাপদ?

কীভাবে কাজ করে এই টেপ?

এই টেপগুলিতে মূলত হাইড্রোজেন পারক্সাইড বা কার্বামাইড পারক্সাইড নামক ব্লিচিং এজেন্ট থাকে। টেপটি দাঁতে লাগালে এই কেমিক্যাল দাঁতের এনামেলের ভিতরে ঢুকে হলদে দাগকে ভেঙে দেয় এবং দাঁতকে সাদা দেখায়। সাধারণত দিনে ১ বার ১০-৩০ মিনিট করে ৭ থেকে ১৪ দিন ব্যবহার করতে বলা হয়।

আসলেই কি নিরাপদ? ডাক্তাররা কী বলছেন?

ডেন্টিস্টদের মতে, মাঝে মধ্যে, সঠিক নিয়ম মেনে ব্যবহার করলে এটি সাময়িকভাবে নিরাপদ হতে পারে, কিন্তু এর অনেক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে।

১. দাঁত শিরশির করা ও ব্যথা: এটি সবচেয়ে সাধারণ সমস্যা। পারক্সাইড দাঁতের এনামেলকে দুর্বল করে দেয়, ফলে ঠান্ডা-গরম খেলে দাঁত শিরশির করে। অনেকের মাড়িতেও জ্বালা করে।

২. এনামেলের ক্ষতি: অতিরিক্ত বা ভুলভাবে ব্যবহার করলে দাঁতের উপরের সুরক্ষা স্তর এনামেল ক্ষয়ে যেতে পারে। একবার এনামেল নষ্ট হলে তা আর ফেরে না, দাঁত আরও বেশি হলদে এবং দুর্বল হয়ে যায়।

৩. সবার জন্য নয়: যাদের দাঁতে ক্যাভিটি, মাড়ির রোগ, দাঁতে ফিলিং বা ক্যাপ করা আছে, তাদের জন্য এই টেপ একদমই নয়। এতে সমস্যা আরও বাড়বে।

দাম কত?

বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের টেপ পাওয়া যায়। - সাধারণ ব্র্যান্ড (যেমন - হোয়াইট লাইট, স্থানীয় ব্র্যান্ড): ৩০০ - ৬০০ টাকা (১৪ টি স্ট্রিপস) - জনপ্রিয় ব্র্যান্ড (যেমন - Crest 3D White, HiSmile): ১২০০ - ২৫০০ টাকা

কিন্তু সস্তার নকল পণ্য কিনবেন না, তাতে অ্যাসিডের পরিমাণ বেশি থাকতে পারে।

বিশেষজ্ঞের পরামর্শ:

১. কোনও হোয়াইটেনিং টেপ কেনার আগে অবশ্যই একজন ডেন্টিস্টের সাথে কথা বলুন। ২. টানা ১৪ দিনের বেশি ব্যবহার করবেন না। ৩. টেপ লাগানোর পর ১ ঘণ্টা কিছু খাবেন না। ৪. হলদে ভাব দূর করতে প্রাকৃতিক উপায়ে - দিনে দুবার ব্রাশ, Oil Pulling এবং চা-কফি কম খাওয়ার অভ্যাস করুন।

মনে রাখবেন, ঝকঝকে সাদা দাঁতের চেয়ে সুস্থ দাঁত অনেক বেশি জরুরি।