সোম থেকে শুক্র টানা কাজ, আর শনি-রবিবার এলেই বিছানায় ল্যাদ। অনেকেরই উইকএন্ড রুটিন এটাই। মনে হয়, সারাদিন শুয়ে থাকলে শরীরের সব ক্লান্তি দূর হয়ে যাবে। কিন্তু চিকিৎসকরা বলছেন, এর উল্টোটাই হচ্ছে। এই অতিরিক্ত আরামই শরীরকে আরও ক্লান্ত করে দিচ্ছে এবং ভেতরে ভেতরে অসুস্থ করে তুলছে। একে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় বলে 'Bed Rotting' বা বিছানায় পচা।

সোম থেকে শুক্র টানা কাজ, আর শনি-রবিবার এলেই বিছানায় ল্যাদ। অনেকেরই উইকএন্ড রুটিন এটাই। মনে হয়, সারাদিন শুয়ে থাকলে শরীরের সব ক্লান্তি দূর হয়ে যাবে। কিন্তু চিকিৎসকরা বলছেন, এর উল্টোটাই হচ্ছে। এই অতিরিক্ত আরামই শরীরকে আরও ক্লান্ত করে দিচ্ছে এবং ভেতরে ভেতরে অসুস্থ করে তুলছে। একে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় বলে 'Bed Rotting' বা বিছানায় পচা।

১. ওজন বাড়ে হু হু করে: আপনি যখন সারাদিন শুয়ে থাকেন, তখন শরীরে ক্যালোরি খরচ প্রায় হয় না বললেই চলে। কিন্তু খাওয়া-দাওয়া একই থাকে। ফলে অতিরিক্ত ক্যালোরি ফ্যাট হিসাবে জমতে থাকে। মাত্র দু'দিনের অলসতাতেই মেটাবলিজম রেট ৩০% পর্যন্ত কমে যায়।

২. কোমর ও পিঠের ব্যথা: টানা শুয়ে থাকলে মেরুদণ্ডের ওপর চাপ পড়ে। পেশি শক্ত হয়ে যায়, রক্ত সঞ্চালন কমে যায়। তাই সোমবার সকালে উঠে কোমর ব্যথা, ঘাড়ে যন্ত্রণা হওয়া খুব সাধারণ। দীর্ঘদিন এমন চললে স্পন্ডিলাইটিসের ঝুঁকি বাড়ে।

৩. মুড খারাপ ও ডিপ্রেশন: ভাবছেন শুয়ে থাকলে মন ভালো থাকবে? গবেষণা বলছে উল্টোটা। সারাদিন ঘরে শুয়ে থাকলে শরীরে সেরোটোনিন ও ডোপামিন হরমোন কমে যায়, যা আমাদের আনন্দে রাখে। সূর্যের আলো না পাওয়ায় ভিটামিন ডি-র অভাব হয়। এর ফলে উইকএন্ড শেষে আরও বেশি বিরক্তি, ক্লান্তি ও ডিপ্রেশন কাজ করে, যাকে বলে Weekend Blues।

৪. ঘুমের বারোটা বাজে: উইকএন্ডে বেলা ১২টা পর্যন্ত ঘুমালে শরীরের বায়োলজিক্যাল ক্লক বা সার্কাডিয়ান রিদম নষ্ট হয়ে যায়। তখন রবিবার রাতে আর ঘুম আসে না এবং সোমবার সকালে উঠতে কষ্ট হয়। একে বলে Social Jet Lag।

৫. হার্টের ঝুঁকি: American Heart Association-এর গবেষণা অনুযায়ী, দিনে ৮ ঘণ্টার বেশি শুয়ে বা বসে থাকলে হার্টের রোগ, ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি ৪০% পর্যন্ত বেড়ে যায়।

তাহলে উইকএন্ডে কী করবেন? পুরো শুয়ে না থেকে Active Rest করুন। সকালে ৩০ মিনিট হাঁটুন, হালকা স্ট্রেচিং করুন, বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করুন, পছন্দের বই পড়ুন বা ঘর গোছান। শরীরকে সচল রাখুন, অলস নয়। মনে রাখবেন, আরাম মানে বিছানায় পড়ে থাকা নয়, শরীর ও মনকে রিচার্জ করা।