প্রায় একমাস বাদে স্বস্থানে ফিরলেন তিনি। যাকে বলে একেবারে রাজকীয় মর্যাদায়। এক কথায় বলা যায়, রীতিমতো পুলিশি নিরাপত্তায় বিদ্যাসাগর কলেজে ফিরল ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের নতুন মূর্তি। যা দেখে অনেকেই আক্ষেপ করে বলছেন, মূর্তি ভাঙচুরের দিন এত পুলিশ থাকলে হয়তো বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার লজ্জার সাক্ষী থাকতে হত না রাজ্যবাসীকে। 

এ দিন বিদ্যাসাগরের মূর্তি স্বস্থানে ফিরিয়ে দেওয়ার অনুষ্ঠানে আয়োজনের খামতি ছিল না। কলেজ স্ট্রিট, বিধান সরণীর যে রাস্তা দিয়ে অমিত শাহের রোড শো হয়েছিল, সেই পথ ধরেই রীতিমতো হুডখোলা গাড়িততে চাপিয়ে ফুলে, মালায় সাজিয়ে শোভাযাত্রা করে বিদ্যাসাগরের নতুন মূর্তিকে বিদ্যাসাগর কলেজে নিয়ে আসা হয়। পুলিশি নিরাপত্তাও ছিল চোখে পড়ার মতো। একদম শুরুতে হুডখোলা গাড়িতে ছিল বিদ্যাসাগরের মূর্তি। তার পিছনে হেঁটে আসেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শোভাযাত্রায় পা মিলিয়েছিলেন বিদ্যাসাগর কলেজের ছাত্রছাত্রীরাও। ভেঙে দেওয়া মূর্তিটির আদলেই নতুন মূর্তিটি তৈরি করা হয়েছে। দোষী যেই হোন না কেন, বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙচুরের ঘটনায় মাথা হেঁট হয়েছিল কলকাতার, বাংলার। পূর্ণ মর্যাদায় বিদ্যাসাগরের মূর্তি স্বস্থানে ফিরল বটে, কিন্তু রাজনীতির লড়াই থেকে বিদ্যাসাগর মুক্তি পেলেন কি না, তা সময়ই বলবে। 

 গত একমাস ধরে রাজ্য রাজনীতিতে তাঁকে ঘিরে চর্চার অন্ত ছিল না। যার সূত্রপাত হয়েছিল গত ১৪ মে কলকাতায় অমিত শাহের রোড শো চলার সময়ে। তৃণমূল বিজেপি সংঘর্ষের জেরে বিদ্যাসাগর কলেজে ঢুকে একদল দুষ্কৃতী বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙচুর করে। যা নিয়ে শুরু হয়েছিল রাজনৈতিক চাপানউতোর। শেষ পর্যন্ত প্রতিশ্রুতি মতো মঙ্গলবার বিদ্যাসাগরের নতুন একটি মূর্তি বিদ্যাসাগর কলেজে বসানো হল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানিয়েছেন, বিদ্যাসাগরের আরও একটি ব্রোঞ্জের মূর্তি রাজ্য সরকার তৈরি করছে। একই সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজি নজরুল ইসলাম এবং আশুতোষ মুখোপাধ্যায়েরও একটি করে ব্রোঞ্জের মূর্তি তৈরি করে দেবে সরকার।