নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ার পর ভুয়ো ও অবৈধ রেশন কার্ড বাতিলের কাজে বিশেষ জোর দিয়েছে রাজ্য সরকার। প্রশাসন সূত্রে খবর, জাল আধার সংযোগ, মৃত বা অস্তিত্বহীন গ্রাহক এবং অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের রেশন ব্যবস্থার বাইরে রাখতে খাদ্য ও সরবরাহ দফতর জেলাভিত্তিক বিশেষ অভিযান শুরু করেছে।
নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ার পর ভুয়ো ও অবৈধ রেশন কার্ড বাতিলের কাজে বিশেষ জোর দিয়েছে রাজ্য সরকার। প্রশাসন সূত্রে খবর, জাল আধার সংযোগ, মৃত বা অস্তিত্বহীন গ্রাহক এবং অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের রেশন ব্যবস্থার বাইরে রাখতে খাদ্য ও সরবরাহ দফতর জেলাভিত্তিক বিশেষ অভিযান শুরু করেছে। সীমান্ত সংলগ্ন জেলাগুলিতে এই ধরনের ভুয়ো কার্ডের সংখ্যা বেশি হওয়ায় সেখানে নজরদারি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ আরও কড়া করা হয়েছে।
ভোটার তালিকার তথ্যের সঙ্গে আধার এবং পাবলিক ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম বা পিডিএসের তথ্য মিলিয়ে ভুয়ো ও সন্দেহজনক রেশন কার্ড শনাক্ত করা হচ্ছে। মৃত, অন্যত্র স্থানান্তরিত কিংবা দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ ব্যক্তিদের নামে রেশন বরাদ্দ হওয়ার মতো ঘটনাও সামনে এসেছে। প্রশাসনের প্রাথমিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজ্যজুড়ে এক কোটিরও বেশি সন্দেহজনক ও ভুয়ো রেশন কার্ড নিষ্ক্রিয় বা বাতিলের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এর মধ্যে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, মালদহ এবং উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরের মতো সীমান্তবর্তী জেলাগুলি থেকেই সর্বাধিক ভুয়ো কার্ডের সন্ধান মিলেছে। শুধু উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং নদিয়া—এই তিন জেলা মিলিয়ে বাতিল ও নিষ্ক্রিয় কার্ডের সংখ্যা প্রায় ৩৫ লক্ষ ছাড়িয়ে গিয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর।
সীমান্তবর্তী এলাকার জনবিন্যাসের সুযোগ নিয়ে কিছু অসাধু চক্র ভুয়ো পরিচয়পত্র ব্যবহার করে রেশন কার্ড তৈরি করছিল বলে অভিযোগ। এই ধরনের অনিয়ম রুখতে ই-পস মেশিনে বায়োমেট্রিক ও আধারভিত্তিক প্রমাণীকরণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যেসব কার্ডে এখনও সঠিক নথিপত্র বা আধার সংযোগ সম্পূর্ণ হয়নি, সেগুলিও চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ করা হচ্ছে।
এই প্রসঙ্গে রাজ্যের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী জানান, প্রকৃত ও দরিদ্র উপভোক্তাদের প্রাপ্য চাল-গম যাতে কোনওভাবেই অন্য কারও হাতে না পৌঁছয়, তা নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। এসআইআর প্রক্রিয়ায় উঠে আসা অসংগতি পর্যালোচনা করে ভুয়ো কার্ড বাতিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকায় দীর্ঘদিনের অনিয়ম বন্ধ করতে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। কোনও অবৈধ বা অযোগ্য ব্যক্তি যাতে সরকারি ভর্তুকির সুবিধা না পান, তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রকৃত ভারতীয় ও যোগ্য নাগরিকরা যাতে খাদ্য সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত না হন, সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে। রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে খাদ্য ভর্তুকি বাবদ বিপুল পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় হবে এবং প্রকৃত দরিদ্র পরিবারগুলি আরও সুষম বণ্টনের সুবিধা পাবে বলে মনে করছে প্রশাসনের একাংশ।


