Health News: আমাদের অনেকেরই মাটিতে বাবু হয়ে বসে খাওয়া বা কাজ করার অভ্যাস আছে। কিন্তু যাদের আর্থ্রাইটিস বা হাঁটুর বাত আছে, তাদের জন্য এই বসার ভঙ্গি কি নিরাপদ? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাবু হয়ে বসা সাময়িক আরাম দিলেও দীর্ঘমেয়াদে হাঁটুর উপর মারাত্মক চাপ ফেলে এবং ব্যথা বাড়িয়ে দেয়।

Health News: বাঙালি বাড়িতে মাটিতে বাবু হয়ে বসে আড্ডা দেওয়া, খাওয়া বা পুজো করার চল বহু পুরনো। কিন্তু যাদের হাঁটুতে বাত, অস্টিওআর্থ্রাইটিস বা রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস রয়েছে, তাদের মনে একটাই প্রশ্ন আসে - বাবু হয়ে বসা কি উচিত? অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞদের মতে, আর্থ্রাইটিস থাকলে মাটিতে বাবু হয়ে বসা একেবারেই উচিত নয় এবং এটি এড়িয়ে চলাই ভালো। এর প্রধান কারণ হল, এই ভঙ্গিতে বসলে আমাদের হাঁটুর জয়েন্টের উপর শরীরের পুরো ওজন এসে পড়ে। হাঁটু প্রায় ১২০ থেকে ১৪০ ডিগ্রি পর্যন্ত ভাঁজ হয়ে থাকে, ফলে হাঁটুর ভিতরের কার্টিলেজ বা তরুণাস্থির উপর প্রচণ্ড চাপ পড়ে। যাদের কার্টিলেজ ইতিমধ্যেই ক্ষয়ে গেছে, তাদের এই চাপে ব্যথা, ফোলা এবং জয়েন্ট শক্ত হয়ে যাওয়ার সমস্যা অনেক বেড়ে যায়।

অনেকেই মনে করেন বাবু হয়ে বসলে হাঁটুর ব্যায়াম হয়, কিন্তু আর্থ্রাইটিসের ক্ষেত্রে উল্টোটা হয়। দীর্ঘক্ষণ এইভাবে বসে থাকলে হাঁটুতে রক্ত চলাচল কমে যায়, পা ঝিনঝিন করে এবং উঠতে গেলে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব হয়। বিশেষ করে যাদের হাঁটু ফুলে আছে বা সিঁড়ি দিয়ে উঠতে-নামতে কষ্ট হয়, তাদের জন্য এই ভঙ্গি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এতে হাঁটুর ক্ষয় আরও দ্রুত হয় এবং অনেক সময় হাঁটু লক হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে। রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসে যেখানে জয়েন্টে প্রদাহ থাকে, সেখানে মাটিতে বসলে প্রদাহ আরও বাড়ে।

তাহলে আর্থ্রাইটিস রোগীরা কীভাবে বসবেন? চিকিৎসকরা সবসময় চেয়ারে বসার পরামর্শ দেন। চেয়ারে বসলে হাঁটু ৯০ ডিগ্রি কোণে থাকে, ফলে জয়েন্টে চাপ কম পড়ে। চেয়ারটি এমন উচ্চতার হওয়া উচিত যাতে পা মাটিতে সমানভাবে থাকে এবং হাঁটু নিতম্বের থেকে সামান্য নিচে থাকে। যদি মাটিতে বসতেই হয়, তাহলে পা ছড়িয়ে বা দেয়ালে হেলান দিয়ে বসতে পারেন, কিন্তু বেশিক্ষণ নয়। এছাড়াও দীর্ঘক্ষণ একভাবে বসে থাকবেন না, প্রতি ৩০-৪০ মিনিট অন্তর উঠে একটু হাঁটাচলা করুন। হাঁটুর নিচে বালিশ দিয়ে পা সোজা করে বসাও একটি ভালো বিকল্প। মনে রাখবেন, আর্থ্রাইটিসের ব্যথা কমাতে সঠিক বসার ভঙ্গির পাশাপাশি ওজন নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত ফিজিওথেরাপি এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি।

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।