অফিসে সবাই আপনার সঙ্গে হেসে কথা বললেও মনে মনে হিংসা করছেন না তো? প্রমোশন বা প্রশংসা পেলেই তাদের ব্যবহার বদলে যাচ্ছে? এই ৫টি লক্ষণ দেখলেই বুঝবেন কে আপনার ভালো চায় না।

অফিসে আমরা দিনের একটা বড় সময় কাটাই। সেখানে বন্ধুত্ব হওয়াটা স্বাভাবিক। কিন্তু অনেক সময় যে সহকর্মীকে আপনি বন্ধু ভাবছেন, তিনিই মনে মনে আপনাকে হিংসা করছেন। সরাসরি মুখে কিছু বলবেন না, কিন্তু তার ব্যবহারে কিছু লক্ষণ দেখা যাবে যা দেখে আপনি সতর্ক হতে পারেন। মনোবিদরা বলছেন, এই লক্ষণগুলো চিনতে পারলে অফিস পলিটিক্স থেকে নিজেকে বাঁচানো যায়।

*প্রশংসার আড়ালে খোঁচা:*

যখন আপনি কোনও ভালো কাজ করেন বা বস আপনার প্রশংসা করেন, তখন হিংসুটে সহকর্মী সরাসরি প্রশংসা করবে না। বলবে, "বাহ, এবার তো তুমি বসের খুব কাছের লোক হয়ে গেলে!" বা "ভাগ্য ভালো ছিল তাই প্রজেক্টটা পেয়ে গেলে"। এই ধরনের কথার মাধ্যমে আপনার পরিশ্রমকে ছোট করে দেখানো হয়।

*আপনার অনুপস্থিতিতে বদনাম:*

এরা সামনে খুব মিষ্টি ব্যবহার করবে, কিন্তু আপনার পিছনে অন্য সহকর্মীদের কাছে আপনার নামে নেতিবাচক কথা বলবে। আপনি ছুটিতে থাকলে বা মিটিংয়ে না থাকলে আপনার কাজ নিয়ে সন্দেহ তৈরি করবে। এর উদ্দেশ্য হল অন্যদের চোখে আপনাকে ছোট করা।

*আপনার সাফল্যে খুশি না হওয়া:*

আপনি প্রমোশন পেলেন বা কোনও পুরস্কার পেলেন, তখন সবাই খুশি হলেও ওই একজন ব্যক্তি চুপ থাকবে বা মুখ ঘুরিয়ে নেবে। আপনার সাফল্যের খবরে তাকে কখনও মন থেকে খুশি হতে দেখবেন না। বরং সে সঙ্গে সঙ্গে নিজের সাফল্যের গল্প বলতে শুরু করবে।

*প্রয়োজনে সাহায্য না করা:*

আপনি কোনও কাজে আটকে গেলে বা সাহায্য চাইলে সে নানা অজুহাত দেখাবে। কিন্তু বসের সামনে এমন ভাব দেখাবে যেন সে সবসময় আপনাকে সাহায্য করে। ইচ্ছে করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বা মেইল আপনাকে দেবে না যাতে আপনি পিছিয়ে পড়েন।

*সবসময় প্রতিযোগিতা করা:*

সাধারণ সহকর্মীর মধ্যে সহযোগিতা থাকে, কিন্তু হিংসুটে সহকর্মী সবকিছুকে প্রতিযোগিতা বানিয়ে ফেলে। আপনি নতুন জামা পরলে, নতুন ফোন কিনলে, সেও একই জিনিস করার চেষ্টা করবে। আপনাকে সবসময় ছাপিয়ে যাওয়ার একটা অদ্ভুত চেষ্টা তার মধ্যে দেখা যাবে।

এই লক্ষণগুলো যদি কারও মধ্যে দেখেন, তাহলে তার সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখাই ভালো। অফিসে নিজের ব্যক্তিগত কথা বা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সবার সঙ্গে শেয়ার না করাই বুদ্ধিমানের কাজ।