Birds: কখনও ভেবে দেখেছেন, গভীর ঘুমে মানুষ বিছানা থেকে পড়ে যায়, কিন্তু পাখি সরু ডালে ঘুমালেও পড়ে না কেন? এর পেছনে আছে এক দারুণ বিজ্ঞান, পাখির পায়ের এক অটোমেটিক লক সিস্টেম।
Birds: আমরা ঘুমের মধ্যে কতবার পাশ ফিরি, অনেক সময় বিছানা থেকেও পড়ে যাই। কিন্তু একটি ছোট্ট চড়ুই বা টিয়া গাছের সরু ডালে ঘুমালেও একটুও নড়ে না, পড়ে যায় না। এমনকি ঝড়ের রাতেও তারা ডাল আঁকড়ে থাকে। মনে হয় যেন পায়ে আঠা লাগানো আছে! এর পেছনে কোনও জাদু নয়, আছে দুর্দান্ত বায়োলজি।
পাখির পায়ে আছে এক বিশেষ অটোমেটিক লকিং সিস্টেম, বিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলে Tendon Locking Mechanism।
কীভাবে কাজ করে এই জাদু?
পাখির পায়ের পেছন দিকে একটি লম্বা টেন্ডন বা রগ থাকে, যা পায়ের ওপরের মাংসপেশির সঙ্গে আঙুলের হাড়কে জুড়ে রাখে। যখন পাখি ডালে বসে এবং হাঁটু ভাঁজ করে বসে পড়ে, তখন এই টেন্ডনটি আপনা থেকেই টানটান হয়ে যায়।
অনেকটা আমাদের হাতে কিছু ধরলে যেমন মুঠো বন্ধ হয়ে যায়, ঠিক তেমনই। হাঁটু ভাঁজ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পায়ের আঙুলগুলো ডালটিকে অটোমেটিক ভাবে শক্ত করে আঁকড়ে ধরে। মজার ব্যাপার হল, এর জন্য পাখিকে কোনও শক্তি খরচ করতে হয় না। এটি একটি প্যাসিভ সিস্টেম।
যতক্ষণ পাখি বসে থাকবে, ততক্ষণ এই লক খুলবে না। ঘুমের মধ্যে পেশি শিথিল হয়ে গেলে এই লক আরও শক্ত হয়ে যায়। তাই পাখি যত গভীর ঘুমে যাবে, ডালটিকে তত শক্ত করে ধরবে। মানুষের মতো ঘুমের মধ্যে পেশি আলগা হয়ে পড়ে যাওয়ার ভয় নেই।
আবার যখন পাখি উঠতে চায়, তখন সে শুধু হাঁটু সোজা করে দাঁড়ায়। সঙ্গে সঙ্গে টেন্ডন আলগা হয়ে যায় এবং আঙুলের লক খুলে যায়। সে উড়ে যেতে পারে।
আরেকটি কারণ হল, বেশিরভাগ পাখি ঘুমানোর সময় শরীরের ভর একদম নিচের দিকে নামিয়ে দেয়, যাতে মাধ্যাকর্ষণ কেন্দ্র ডালের ওপরেই থাকে। ফলে ভারসাম্য নষ্ট হয় না।
প্রকৃতি কতটা নিখুঁতভাবে পাখিকে তৈরি করেছে ভাবুন! এই ছোট্ট লকিং সিস্টেমের জন্যই তারা নিশ্চিন্তে ডালে ঘুমাতে পারে, পড়ে যাওয়ার কোনও ভয় ছাড়াই।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।


