Asian Games 2026: ২০২৬ সালের নাগোয়া এশিয়ান গেমসে অ্যাথলিটদের থাকা-খাওয়ার সমস্যা মেটাতে তিন স্তরের ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালু করেছে ক্রীড়ামন্ত্রক। অব্যবস্থাপনার খবরের মাঝেই, প্রয়োজনে অ্যাথলিটদের নিজেদের বাড়িতে রাখতে প্রস্তুত প্রায় ২,০০০ প্রবাসী ভারতীয়।

Asian Games 2026: কেন্দ্রীয় ক্রীড়া মন্ত্রক (MYAS) ২০২৬ সালের নাগোয়া এশিয়ান গেমসে লজিস্টিক সমস্যা মেটাতে তিন স্তরের ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালু করেছে। গেমসে অব্যবস্থাপনার খবর সামনে আসার পরেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রক জানিয়েছে, অ্যাথলিটদের থাকা, যাতায়াত বা অন্য কোনও বিষয়ে যাতে সমস্যা না হয়, তার জন্য ভারতীয় আধিকারিক এবং প্রবাসী ভারতীয়রা একসঙ্গে কাজ করছেন। প্রায় ২,০০০ প্রবাসী ভারতীয় প্রয়োজনে অ্যাথলিটদের নিজেদের বাড়িতে রাখতে প্রস্তুত রয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে (Asian Games 2026)।

সংবাদসংস্থা এএনআই-কে ক্রীড়ামন্ত্রকের একটি সূত্র জানিয়েছে, "অ্যাথলিটদের থাকার সমস্যা হলে, নাগোয়ায় প্রায় ২,০০০ প্রবাসী ভারতীয় তাদের নিজেদের বাড়ির দরজা খুলে দিতে প্রস্তুত। প্রবাসীরা ইতিমধ্যেই কাজে নেমে পড়েছেন। আমরা বিমানবন্দরে দু'জন এবং ওয়েলকাম সেন্টারে তিনজনকে দায়িত্ব দিয়েছি। শেফ দ্য মিশন (সহদেব যাদব) এবং সাই (SAI) আধিকারিকরা নিশ্চিত করছেন যাতে অ্যাথলিটদের আর কোনও সমস্যায় পড়তে না হয়।"

ক্রীড়ামন্ত্রী ও আইওএ-র আলোচনা

ক্রীড়ামন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডব্য শুক্রবার নাগোয়ায় ইন্ডিয়ান অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (IOA) সভাপতি পিটি ঊষার সঙ্গে দেখা করেন। জাপানে পৌঁছানোর পর অ্যাথলিটরা যে থাকার সমস্যায় পড়েছেন, তা নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়। নিজের এক্স (X) হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট শেয়ার করে ঊষা লেখেন, "নাগোয়ায় আমাদের মাননীয় ক্রীড়ামন্ত্রী শ্রী মনসুখ মাণ্ডব্য জি-কে স্বাগত! সব সময় পাশে থাকার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ স্যার। আপনার উপস্থিতি নিশ্চিতভাবেই আমাদের দলের মনোবল বাড়াবে।"

লজিস্টিক সমস্যা নিয়ে শেফ দ্য মিশন

২০২৬ এশিয়ান গেমসে ভারতের শেফ দ্য মিশন সহদেব যাদব শুক্রবারই থাকার জায়গা, অ্যাক্রেডিটেশন এবং যাতায়াতের প্রাথমিক সমস্যার কথা স্বীকার করে নেন। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, দলের সব প্রয়োজন মেটাতে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সাংবাদিকদের যাদব বলেন, "সবার থাকার জায়গা আছে, আমাদের দিক থেকে কোনও সমস্যা নেই। শুরুতে কিছু সমস্যা ছিল, তাই আমরা অতিরিক্ত হোটেল বুক করেছি। আমাদের দল সরাসরি বিমানবন্দরে যাচ্ছে। অ্যাক্রেডিটেশন প্রক্রিয়া বেশ লম্বা এবং সেটা ক্রুজে হচ্ছে, তাই অনেক সময় লাগছে। যাতায়াতেরও কিছু সমস্যা রয়েছে, তবে আমরা খেলোয়াড়দের জন্য গাড়ি ও হোটেলের নিজস্ব ব্যবস্থা করেছি। আমরা ইতিমধ্যেই ১৮টি ঘর বুক করেছি এবং আজ আরও ১০টি বুক করব। থাকার জায়গার যে একটা ঘাটতি রয়েছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই।"

যাদব জানান, জাপানে পৌঁছনোর পর তাদের জানানো হয় যে, থাকার কোটা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে খুব অল্প সময়ের নোটিশে দলকে অতিরিক্ত হোটেলের ঘর জোগাড় করতে হয়। তিনি বলেন, “আমরা এখানে পৌঁছানোর পর জানতে পারি যে আমাদের থাকার কোটা কমানো হয়েছে। তাই একদিনের মধ্যেই আমাদের অতিরিক্ত হোটেল বুক করতে হয়।” লজিস্টিক সমস্যার কথা স্বীকার করে নিলেও, যাদব জানান যে তাদের মূল লক্ষ্য অ্যাথলিটদের স্বাচ্ছন্দ্য এবং প্রস্তুতি। তিনি বলেন, “কিছু অব্যবস্থাপনা হয়েছে ঠিকই, তবে এত বড় একটা ইভেন্টে এমনটা হতেই পারে। কার দোষ, সেটা নিয়ে আমরা এখন ভাবতে চাই না। আমাদের অগ্রাধিকার হলো ছেলেমেয়েদের দেখাশোনা করা; তাদের সব সমস্যার সমাধান করে তারা যাতে আরামে থাকে সেটা নিশ্চিত করা। আমরা চাই তারা শুধু নিজেদের পারফরম্যান্সে ফোকাস করুক, পদক জিতুক এবং তারপর রিল্যাক্স করুক। এটাই আমাদের চাওয়া এবং সেই লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি।”

অন্যদিকে, সাধারণত প্রতিযোগিতা শুরুর এক দিন আগে দেশগুলির পতাকা উত্তোলন করা হয়। শুক্রবার স্থানীয় সময় দুপুর ১.৩০ মিনিটে, গার্ডেন পায়ারে ভারতের পতাকা উত্তোলন হওয়ার কথা ছিল। ভারতের সঙ্গে হাজির ছিলেন ইয়েমেন, উত্তর কোরিয়া, প্যালেস্তাইন, চিনা তাইপেই এবং টিমর লেস্টের প্রতিনিধিরাও। ভারতের শেফ দ্য মিশন সহদেব যাদব এবং চারজন ডেপুটি শেফ দ্য মিশনও হাজির ছিলেন।

আয়োজক কমিটির তরফে প্রথমে জানানো হয়, কিছুটা দেরি হচ্ছে। কারণ, দলের মধ্যে সমস্যা হচ্ছে। কিন্তু সময় পেরোতেই থাকে। পরে জানানো হয়, “অলিম্পিক্স কাউন্সিল অফ এশিয়া (ওসিএ) এবং আয়োজক কমিটির ভুল বোঝাবুঝির কারণে এই সমস্যা তৈরি হয়েছে। কেউ ইচ্ছা করে অনুষ্ঠান দেরি করানোর চেষ্টা করেননি। কারণ, প্রধান অতিথি দেরি করে আসায় সমস্যা হয়।" জানা গেছে। ৬টি দেশের অতিথিদের অপেক্ষা করতে বলা হয়। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করার পরেও কিছু না হওয়ায় অনেকেই অনুষ্ঠান ছেড়ে বেরিয়ে যান। শেষপর্যন্ত, ভারতের তরফ থেকে ডেপুটি শেফ দ্য মিশন অঞ্জলি ভগবত এবং প্রাক্তন রিলে দৌড়বিদ লিজো ডেভিড থোট্টান উপস্থিত ছিলেন। সহদেব জানিয়েছেন, “আমার জীবনে কোনওদিন এইরকম দেখি নি।”

আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।