ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূল কংগ্রেসের অফিসের দখল নিয়ে বিতর্কের মাঝে স্থিতাবস্থা জারি করল সিটি সিভিল কোর্ট। এর ফলে আপাতত ওই অফিসের দখল এবং লিজ সংক্রান্ত অধিকার তৃণমূলের হাতেই থাকছে। এই অফিস ভাঙচুরের অভিযোগে ইতিমধ্যেই ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ক্যামাক স্ট্রিটে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের (AITC) অফিসের ওপর স্থিতাবস্থা জারি করল কলকাতা সিটি সিভিল কোর্ট। এর ফলে পার্টি ওই চত্বরের দখল এবং ব্যবহার চালিয়ে যেতে পারবে। অফিস ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠার পর আদালতের এই নির্দেশকে বেশ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তৃণমূল সূত্রের খবর, এই স্থিতাবস্থা জারির অর্থ হল, সম্পত্তির দখল, ব্যবহার এবং লিজ সংক্রান্ত সমস্ত অধিকার পার্টির হাতেই থাকছে।

তৃণমূলের স্বস্তি

তৃণমূলের এক সূত্র জানিয়েছে, "সিটি সিভিল কোর্ট স্থিতাবস্থা জারি করেছে। এর মানে হল, তৃণমূল কংগ্রেসই এই সম্পত্তির দখল, ব্যবহার এবং লিজের অধিকার ধরে রাখছে।"

ক্যামাক স্ট্রিট-কাণ্ডের সূত্রপাত

এই বিতর্কের সূত্রপাত হয় যখন তৃণমূল অভিযোগ করে যে বিজেপির সঙ্গে যুক্ত একদল লোক ভোররাতে অফিসে ঢুকে ভাঙচুর চালায় এবং নিরাপত্তারক্ষীদের মারধর করে।

এরই মধ্যে কলকাতা পৌরসভা এবং কলকাতা পুলিশের কর্মীরা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসের ওই বিল্ডিং থেকে "অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস" লেখা একটি সাইনবোর্ড সরিয়ে দেন। এদিকে, তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে ভাঙচুরের অভিযোগে কলকাতা পুলিশ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

উপাসনা চৌধুরীর প্রতিক্রিয়া

তৃণমূলের আইটি সেলের ইন-চার্জ উপাসনা চৌধুরী অভিযোগ করেছেন, ঘটনাটি ঘটে ভোর সাড়ে তিনটে নাগাদ। তাঁর দাবি, অভিযুক্ত বিজেপি কর্মীরা ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে এসে নিরাপত্তারক্ষীদের মারধর করে এবং জোর করে অফিসে ঢুকে ভাঙচুর চালায়। উপসনা চৌধুরী আরও বলেন, সকালে দলের কর্মীরা যখন ঘটনাস্থলে পৌঁছন, তখন অফিসের বাইরে পুলিশ মোতায়েন ছিল। কিন্তু প্রথমে তাঁদের চত্বরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন। তাঁর আরও অভিযোগ, ঘটনাটি যখন ঘটছিল, তখন পুলিশকে জানানোর চেষ্টা করা হলেও কোনও সাড়া মেলেনি। উপাসনা চৌধুরী জানিয়েছেন, তৃণমূল সিসিটিভি এবং অন্যান্য ভিডিও ফুটেজ দেখে এই ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করবে এবং সেই তথ্য পুলিশের কাছে জমা দেবে। তিনি আরও বলেন, এই ঘটনার বিরুদ্ধে পার্টি আইনি এবং গণতান্ত্রিক পথে লড়বে।